শহরে চৌদ্দটি এলাকা, প্রতিটি শিল্পখাতের জন্য একটি: প্রযুক্তি, ওষুধ, পোশাক ও আরএমজি, খাদ্য, আর্থিক সেবা, উৎপাদন ইত্যাদি। প্রতিটি এলাকার ভেতরে সড়কগুলো হলো ব্যবসার ধরন। প্রযুক্তি এলাকায় পাবেন সফটওয়্যার সেবা, ফিনটেক আর ই-লার্নিংয়ের সড়ক; উৎপাদন এলাকায় আছে ইস্পাত, সিমেন্ট, পাটসহ আরও অনেক সড়ক।
তাই কোনো প্রতিষ্ঠান কী করে জানলে, সেটা মোটামুটি কোথায় পাবেন তা-ও জেনে যাবেন।
দশজন পর্যন্ত টিম পায় দোতলা ভবন। টিম বাড়লে ভবনও বাড়ে, আর এক হাজারের বেশি মানুষের প্রতিষ্ঠান পায় আঠারো তলা। মালিক টিমের আকার হালনাগাদ করলে ভবনও উঁচু হয়।
বাজারের দোকানগুলো দোকানই থাকে, অফিস টাওয়ার হয় না, তবে সেগুলোও বড় হয়: ছোট টিমের জন্য দোতলা ডুপ্লেক্স দোকান, পঞ্চাশজন থেকে প্রিমিয়াম স্টোর, দুইশজন থেকে ফ্ল্যাগশিপ স্টোর, আর সবচেয়ে বড় অনলাইন বিক্রেতাদের জন্য মেগাস্টোর। প্রতিটি দোকানের নিজস্ব নকশা: ডুপ্লেক্স, শপহাউস, কন্টেইনার শপ, কাচের প্যাভিলিয়ন বা কাচের ফ্ল্যাগশিপ।
১৯৯৫-এর আগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে আছে লাল ইটের দালানে। ১৯৯৫ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিতগুলো কংক্রিটের। ২০১২ বা তার পরের সবকিছু কাচের।
যেকোনো সড়ক ধরে হাঁটলেই এক নজরে তার ইতিহাস পড়া যায়: পুরোনো ইটের প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা খাতটা গড়েছে, আর কাচের নতুনরা, যারা সেটা বদলে দিচ্ছে।
আকাশ চলে ঢাকার ঘড়ি ধরে। সকালে খুললে দেখবেন সূর্য উঠেছে; মাগরিবের পর এলে দেখবেন জানালায় আলো জ্বলছে। পৃথিবীর যেখানেই থাকুন, শহরটা দেখবেন ঠিক এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যেমন দেখাত।
নতুন ভবন রাতারাতি ওঠে না। তালিকাভুক্ত হওয়ার এক দিনের মধ্যে প্লটে প্রতিষ্ঠানের নামসহ একটি সাইট বিলবোর্ড ওঠে। তারপর এক বছর ধরে তলায় তলায় ভবন ওঠে: প্রথমে ভিতের গর্ত, তারপর বাঁশের মাচা আর সবুজ জালে ঘেরা কংক্রিটের কাঠামো, পাশে টাওয়ার ক্রেন। বাজারের দোকান নীল ত্রিপলের আড়ালে প্রায় দুই সপ্তাহে তৈরি হয়। ক্রেন খুঁজলেই দেখবেন কারা আসছে।
বেশিরভাগ ভবন মালিকেরা নিজেরাই যুক্ত করেছেন। শহরটা যেন দেশের আসল অর্থনীতির ছবি দেখায়, সেজন্য কিছু পরিচিত প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্য তথ্য থেকে যুক্ত করা হয়েছে। সেগুলো দাবিহীন হিসেবে চিহ্নিত, আর সেখানে কোনো যোগাযোগের তথ্য দেখানো হয় না।
কোনো দাবিহীন ভবন আপনার হলে সেটি দাবি করতে পারেন। তালিকা হস্তান্তরের আগে আমরা প্রতিটি দাবি নিজেরা যাচাই করি।
৩ডি শহর চালাতে মোটামুটি আধুনিক ফোন বা কম্পিউটার লাগে। আপনারটায় যদি আটকে যায়, বা ডেটা কম থাকে, এক্সপ্লোর খুলুন: একই প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ, দ্রুত তালিকায়, এলাকা ধরে খোঁজা আর বাছাই করা যায়।
না। এখানে এলাকা মানে শিল্পখাত, ভৌগোলিক জায়গা নয়। প্রতিষ্ঠানের আসল ঠিকানা তার নিজস্ব পাতায় দেখানো হয়।
উচ্চতা টিমের আকার অনুযায়ী হয়, আর দোতলা মানে দশজন পর্যন্ত টিম। টিম বড় হয়ে থাকলে টিমের আকার হালনাগাদ করুন, ভবনও বড় হবে।
আপনার এলাকা আর সড়ক ঠিক হয় আপনার খাত ও ব্যবসার ধরন থেকে। সেই সড়কের ভেতরে ভবনগুলো শহরের নকশা অনুযায়ী বসে, হাতে বসানো হয় না।