এসইও কীভাবে কাজ করে
· গাইড
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শুনতে কঠিন, কিন্তু মূল কথা সহজ: সার্চ ইঞ্জিন যেন আপনার পাতা খুঁজে পায়, বোঝে ও বিশ্বাস করে, যাতে আপনি যা দেন তা যাঁরা খুঁজছেন তাঁদের সামনে আপনাকে দেখায়।
কেন জরুরি
বাংলাদেশে স্কুল, হাসপাতাল, সরবরাহকারী বা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান খোঁজা বেশিরভাগ মানুষ শুরু করেন সার্চ দিয়ে, সাধারণত ফোনে, ইংরেজি বা বাংলায়। ফলাফলের প্রথম পাতার পরে খুব কম মানুষই যান। আপনার ব্যবসা সেখানে না থাকলে, বেশিরভাগের কাছে তার অস্তিত্বই নেই।
ধাপ ১: ক্রলিং
সার্চ ইঞ্জিন ক্রলার নামের প্রোগ্রাম চালায় (গুগলেরটি গুগলবট), যা এক পাতা থেকে আরেক পাতায় লিংক ধরে যায় আর যা পায় তা নামিয়ে নেয়। যে পাতায় কেউ লিংক দেয়নি, তা খুঁজে পাওয়া কঠিন। সাইটম্যাপ, মানে আপনার সব পাতার একটি তালিকা, ক্রলারকে সব খুঁজে পেতে সাহায্য করে; যেসব সাইটে ক্রলার প্রায়ই যায় সেখান থেকে লিংকও সাহায্য করে।
ধাপ ২: ইনডেক্সিং
এরপর সার্চ ইঞ্জিন বোঝে প্রতিটি পাতা কী নিয়ে, আর সেটি তার ইনডেক্সে রাখে। স্পষ্ট শিরোনাম ও উপশিরোনাম সাহায্য করে, আর শুধু ছবির ভেতরে নয়, পাতাতেই লেখা টেক্সটও। ইংরেজি ও বাংলা সংস্করণ থাকলে প্রতিটি আলাদা ঠিকানায় রাখুন এবং hreflang ট্যাগ দিয়ে যুক্ত করুন, যাতে সঠিক পাঠক সঠিক ভাষার পাতা দেখেন। খুব কম তথ্যের, নকল বা ব্লক করা পাতা প্রায়ই বাদ পড়ে।
ধাপ ৩: র্যাংকিং
কেউ খুঁজলে সার্চ ইঞ্জিন তার ইনডেক্স থেকে সবচেয়ে কাজের পাতাগুলো বেছে নেয়। গুগল অনেক সংকেত ব্যবহার করে, তবে সেগুলো কয়েকটি প্রশ্নে এসে দাঁড়ায়:
- যা খোঁজা হয়েছে, পাতাটি কি সত্যিই তার উত্তর দেয়?
- সাইটটি কি বিশ্বাসযোগ্য? অন্য নির্ভরযোগ্য সাইট কি এর কথা বলে বা লিংক দেয়?
- ফোনে কি দ্রুত ও সহজে চলে?
- “কাছের হাসপাতাল”-এর মতো স্থানীয় খোঁজে, ব্যবসার নাম, ঠিকানা ও ফোন কি সব জায়গায় একই রকম?
ছোট ব্যবসার জন্য যা আসলে কাজ করে
- গ্রাহকেরা যে সহজ শব্দে খোঁজেন, সেভাবেই ইংরেজি ও বাংলায় লিখুন আপনি কী করেন।
- ওয়েবসাইটে নাম, ঠিকানা, ফোন ও খোলার সময় দিন, সব জায়গায় একইভাবে লেখা।
- বিনামূল্যে গুগল বিজনেস প্রোফাইল খুলুন, যাতে গুগল ম্যাপে আপনাকে দেখা যায়।
- নির্ভরযোগ্য ডিরেক্টরি ও আপনার বাণিজ্য সংগঠনে তালিকাভুক্ত হোন। প্রতিটিই প্রমাণ করে আপনি আসল।
- আপনার সাইট যেন ফোনে দ্রুত খোলে ও সহজে পড়া যায়।
- স্ট্রাকচার্ড ডেটা (schema.org) যোগ করুন, যাতে সার্চ ইঞ্জিন নিশ্চিতভাবে আপনার নাম, লোগো ও ঠিকানা জানে।
- সন্তুষ্ট গ্রাহকদের রিভিউ দিতে বলুন, আর উত্তর দিন।
- ধৈর্য ধরুন: নতুন পাতা ক্রল ও র্যাংক হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
যা এড়িয়ে চলবেন
লিংক কেনা, অন্যের লেখা নকল করা, পাতা কিওয়ার্ডে ঠেসে দেওয়া, আর যা দেয় না তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া পাতা। সার্চ ইঞ্জিন এগুলো ভালোই ধরতে পারে, আর এতে সাইট ওপরে না উঠে নিচে নেমে যেতে পারে। যে কেউ “গুগলে এক নম্বর” নিশ্চিত করার কথা বললে সাবধান: গুগলের বাইরের কেউ গুগলের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করে না।
BDLUC কোথায় কাজে আসে
BDLUC-এর একটি তালিকা এর কয়েকটি কাজ একসঙ্গে করে দেয়: নিজস্ব শিরোনাম ও বিবরণসহ পাতা, schema.org স্ট্রাকচার্ড ডেটা, hreflang-সহ ইংরেজি ও বাংলা সংস্করণ, সাইটম্যাপে জায়গা, সামাজিক মাধ্যমের জন্য শেয়ার কার্ড, আর সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লেখা আপনার নাম, ঠিকানা ও লিংক। পড়ুন তালিকা কীভাবে বেশি ভিজিটর আনে, অথবা বিনামূল্যে প্রতিষ্ঠান যুক্ত করুন।